
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন প্রদানের বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলটির নিবন্ধনের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এই শুনানির আয়োজন করা হয়।
ইসি সূত্রে জানা যায়, তিন ধাপে এই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির আহ্বায়ক রফিকুল আমিন ও তার প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনে কমিশন। দ্বিতীয় ধাপে দলের নিবন্ধনের বিপক্ষে আপত্তিকারীদের বক্তব্য শোনা হয়। এ সময় কমিশন আপত্তিকারীদের কাছে জানতে চায়, কেন এই দলকে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। এর প্রেক্ষিতে আপত্তিকারীরা পর্যাপ্ত দলিলাদি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
শুনানিতে আপত্তিকারীরা অভিযোগ করেন, রফিকুল আমিন একজন প্রমাণিত প্রতারক। প্রতারণার দায়ে তিনি ১২ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। তারা দলিলাদি উপস্থাপন করে বলেন, রফিকুল আমিনের একটি নিজস্ব প্রশিক্ষিত সিন্ডিকেট রয়েছে। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায়ও এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, জেল থেকে বের হয়ে ডেসটিনির ৮ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর প্রতিষ্ঠান ডিএমসিএসএল (DMCSL)-এর একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখলে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট। মূলত এই কমিটির সদস্যরাই ‘বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি’র নেতৃত্বে রয়েছেন। এছাড়া, একই চক্র সম্প্রতি ‘স্বপ্নের শহর’ নামে নতুন একটি কোম্পানি খুলেছে বলেও তারা কমিশনে প্রমাণ দাখিল করেন। আপত্তিকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই প্রতারক চক্রকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়া হলে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারাবেন এবং রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তারা নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করবে।
শুনানির তৃতীয় ধাপে অভিযোগকারী এবং রফিকুল আমিনের প্রতিনিধিরা একত্রে অংশ নেন। শুনানিতে রফিকুল আমিন দাবি করেন, ডেসটিনির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ হাইকোর্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, সেখানে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে অভিযোগকারীরা নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বিনিয়োগকারীদের মূল বিনিয়োগ ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের নয়, বরং ডিএমসিএসএল-এর; যার সিইও রফিকুল আমিন নিজে এবং এর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আম জনগণ পার্টির নেতারাই রয়েছেন।
এর জবাবে রফিকুল নিজেকে কেবল একজন ‘চাকরিজীবী’ হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করেন। তবে নতুন কোম্পানি ‘স্বপ্নের শহর’ নিয়ে কমিশনের প্রশ্নের মুখে তিনি এর সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন।
শুনানির একপর্যায়ে আম জনগণ পার্টির অন্যান্য প্রতিনিধিরা কথা বলতে চাইলে কমিশন তাদের থামিয়ে দেয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আপনাদের সমস্ত তথ্য-উপাত্ত ও দলিলাদি আমরা পেয়েছি। এখন আর কারও বক্তব্য শোনার প্রয়োজন নেই। আমরা এসব পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।
শুনানি শেষে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে অভিযোগকারীরা বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে উপযুক্ত দলিলাদিসহ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, রফিকুল আমিন একজন সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক এবং ডিএমসিএসএল ও স্বপ্নের শহর একই সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত। এই চক্র বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির নিবন্ধন পেলে লাখ লাখ মানুষের আমানত ও বিনিয়োগ চরম ঝুঁকিতে পড়বে।