August 4, 2026, 9:20 am
শিরোনাম :
বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ রাজউকের মোবাইল কোর্টে ২১ ভবনে অভিযান, ৩৩টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন হচ্ছে ৫ আগস্ট পটুয়াখালী‌তে এবার এইচএস‌সির খাতা দেখ‌ছে শিক্ষার্থীরা ১৬০৯ কোটি টাকার এক্সেল লোড প্রকল্প ‘লাইফ সাপোর্টে’ সাত বছরেও কেনা হয়নি মূল যন্ত্র, অর্ধেকের কম বাস্তবায়নে ঝুঁকিতে মহাসড়ক সুরক্ষা ‘৩% দুলাল’ বিতর্কে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান: দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে মোটরযানের জন্য বিআরটিএর কড়া নিষেধাজ্ঞা নারী থেকে দুর্নীতি—বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান

পটুয়াখালী‌তে এবার এইচএস‌সির খাতা দেখ‌ছে শিক্ষার্থীরা

অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীতে এবার এইচএস‌সি পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থী‌দের দি‌য়ে মূল‌্যায়ন কর‌ার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে। খাতা দেখার ভি‌ডিও সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যমে ছ‌ড়ি‌য়ে পর‌লে বিষয়‌টি নি‌য়ে শিক্ষার্থীসহ অ‌ভিভাবক মহ‌ল উ‌দ্বিগ্ন হ‌লেও প্রিন্সিপ‌্যাল সাফাই গাই‌লেন অ‌ভিযুক্ত শিক্ষ‌কের।

ঘটনা‌টি ঘ‌টে‌ছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপ‌জেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। র‌বিবার দুপু‌রের এ ঘটনা সোমবার সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যমে ছ‌ড়ি‌য়ে পর‌লে আ‌লোচনায় আ‌সে বিষয়‌টি।

ভি‌ডিও‌তে দেখা গে‌ছে, ক‌লে‌জের একাদশ শ্রেনীর ক‌য়েকজন শিক্ষার্থী এইচএস‌সি পরীক্ষার খাতা ( মূল‌্যায়ন পত্র ) ভরাট কর‌ছে।‌ এ সময় টে‌বি‌লের উপর ও চেয়া‌রের উপ‌রে উত্তরপ‌ত্রের অ‌নেক খাতা স্তুপ করে রাখা হ‌য়ে‌ছে। ক‌য়েকজন শিক্ষার্থী চার‌টি বে‌ঞ্চে ব‌সে উত্তরপত্র মূল‌্যায়ন কর‌ছে। খুব খোশ ম‌্যাজা‌জেই তারা একাজ কর‌ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় জ‌নৈক ব‌্যক্তি তার মোবাইল ফো‌নে এমন দৃশ‌্য ভি‌ডিও ক‌রেন। এসময় ওই শিক্ষার্থীরা জানান, ক‌লে‌জের বাংলা বিভা‌গের মোঃ রিপন স‌্যার তা‌দের‌কে উত্তরপ‌ত্রের খা‌লি ঘর ভরাট কর‌তে ব‌লে‌ছে।

স্থানীয় অ‌ভিভাবক মোঃ শাহআলম মিয়া জানান, একাদশ শিক্ষার্থী‌দের দ্বারা এইচএস‌সি পরীক্ষার খাতা দেখা‌নো খুবই লজ্জাজনক ঘটনা। শিক্ষা ব‌্যবস্থার হাল য‌দি এমন হয় তাহ‌লে আমরা আমা‌দের সন্তা‌নদের ভ‌বিষ‌্যত নি‌য়ে খুবই উ‌দ্বিগ্ন। সারাবছর পড়া‌শোনা ক‌রে একজন ছাত্র কত কষ্ট ক‌রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারপর য‌দি তার খাতা তাদের প্রতিষ্ঠা‌নেরই ছোট ভাই‌য়েরা মূল‌্যায়ন ক‌রে আর তা য‌দি পরীক্ষার্থীরা জান‌তে পা‌রে তাহ‌লে তারা মান‌ষিক ভা‌বে যেভা‌বে ভে‌ঙ্গে প‌ড়ে তেমন আমা‌দের মত অ‌ভিভ‌াবক‌দেরও মন খারাপ হ‌য়ে যায়। তি‌নি জানান, বিষয়‌টি খ‌তি‌য়ে দেখা উ‌চিত প্রিন্সিপ‌্যা‌ল স‌্যা‌রের পাশাপা‌শি ওই শিক্ষ‌কের বিরু‌দ্ধেও ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

ওই প্রতিষ্ঠা‌নের এক পরীক্ষার্থী (নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে ) জানান, আ‌মি‌তো রী‌তিমত হতাশ। এত কষ্ট ক‌রে পরীক্ষা দিলাম অথচ জু‌নিয়র ছাত্ররা আমা‌দের খাতা মূল‌্যায়ন কর‌ছে এর চে‌য়ে মন্দ আর কি হ‌তে পা‌রে? জা‌নিনা ওই খাতার ম‌ধ্যে আমারটাও আ‌ছে কিনা? সকাল থে‌কে বিষয়‌টি মাথার ম‌ধ্যে ঘুরপাক খা‌চ্ছে।

এব‌্যপা‌রে বাংলা বিভা‌গের শিক্ষক মোঃ রিপন মিয়ার সা‌থে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি ফোন রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

ত‌বে ঘটনার সত‌্যতা স্বীকার ক‌লে‌জের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ‌্যাল মোঃ শাহ মানজুর জা‌নি‌য়ে‌ছেন, বিষয়‌টি খুবই লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। আ‌মি বাংলা বিভা‌গের স‌্যার রিপনকে এ ব‌্যপা‌রে জিঙ্গাসা ক‌রে‌ছিলাম। তি‌নি আমা‌কে জা‌নি‌য়ে‌ছেন যে, খাতা দেখার সময় আ‌মি হঠাৎ ওয়াশরু‌মে প্রবেশ ক‌রে‌ছিলাম, তখন ক‌য়েকজন ছে‌লে ওই খাতা গু‌লো ভরাট কর‌ছে।

তাহ‌লে ভি‌ডিও‌তে শিক্ষার্থীরা দাবী কর‌ছেন যে, রিপন স‌্যার তা‌দের‌কে উত্তরপত্র ভরাট কর‌তে ব‌লে‌ছে, সেটা কি মিথ‌্যা? এমন প্রশ্নের উত্ত‌রে প্রিন্সিপ‌্যাল জানান, আ‌মি বিষয়টা ওই ভা‌বে জে‌নে‌ছি। তাছাড়া স‌্যা‌রে বল‌ছে তার হাতে সময় কম ছিল, তখন ক‌য়েকটা খাতা দেখ‌তে দি‌ছে কিনা তা আ‌মি খ‌তি‌য়ে দেখ‌ছি।

এ ব‌্যপা‌রে প্রতিষ্ঠা‌নের পক্ষ থে‌কে কোন ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে কিনা এমন প্রশ্নের উত্ত‌রে শাহ মানজুর জানান, আস‌লে কি বল‌বো ব‌লেন, ওনারা ( শিক্ষক ) একদম নত‌ুন। জ‌য়েন ক‌রে‌ছেন মাত্র ক‌য়েক দিন আ‌গে। খাতা মূল‌্যায়‌নের বিষয়টা ভাল ভা‌বে জা‌নেওনা তারা। তাপ‌রেও বিষয়‌টি আ‌মি ভাল ভা‌বে খ‌তি‌য়ে দে‌খে নি আ‌গে।

য‌দিও জেলা মাধ‌্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ম‌জিবর রহমান জা‌নি‌য়ে‌ছেন ভিন্ন কথা। তার ভাষ‌্য, এ‌টি সম্পূর্ন গোপনীয় বিষয়। শিক্ষার্থী‌তো দ‌ু‌রের কথা দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত ছাড়া অন‌্য শিক্ষকদেরও পরীক্ষার খাতা দেখার কোন সু‌যোগ নাই। ওই শিক্ষ‌কের ব‌্যপা‌রে আ‌মি উপ‌জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা‌কে ব‌্যবস্থা নি‌তে এখনই বল‌তে‌ছি।‌



ফেসবুকে আমরা