কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হুমকি, গালিগালাজ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ পরিবারের সদস্য ও বৃদ্ধ কোব্বাত আহমেদ ননী (৭০) আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী কোব্বাত আহমেদ ননী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, উপজেলার ৩নং কালিকাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শাহ আলম কালার সঙ্গে পুকুর খনন ও মাছের পোনা ফেলার টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই অভিযুক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইউনিয়নের কলনী এলাকায় একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্যকে ডাকতে গেলে তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে কোব্বাত আহমেদ ননী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও লক্ষ্য করে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও হামলার অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কোব্বাত আহমেদ ননী বলেন,
একাধিকবার আমাকে অপমান ও হুমকি দিয়েছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বারবার সালিশ করেছেন, প্রতিবারই সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আর এমন করবে না। কিন্তু সে কথা রাখেনি।
তিনি আরও বলেন,
এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বলে, তার ছেলে প্রবাস থেকে আসবে—আমাকে দেখে নেবে। এমনকি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকেও গালিগালাজ করেছে।
চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন,
আমি পুলিশ পরিবারের সদস্য। আমার সন্তান বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করে। তারপরও কেন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি? এই বয়সে এসে কি এটাই আমার প্রাপ্য?
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে এবং তার আচরণ দিন দিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।