
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ • গাড়িচালকের বেতনে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রশ্ন • রাজবাড়ী, সাভার ও ঢাকায় বিপুল সম্পদের অভিযোগ
ঢাকা | ৫ মার্চ ২০২৬
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) টানা দুই দিনে দুটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয় ৪ মার্চ ও ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি গাড়ির চালকের বেতন বাবদ অস্বাভাবিকভাবে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদের তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, তার নামে বা বেনামে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, সাভার ও ধামরাই এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট এবং উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি তার নামে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কী বলছে অভিযোগ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে কাজ শেষ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়ির চালকের বেতন বাবদ প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানোর বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ
ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের অভিযোগ
সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগে যেসব সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে—
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকায় জমি ও বাড়ি সাভার ও ধামরাই এলাকায় বিঘা বিঘা জমি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি

৪ মার্চ ২০২৬
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রথম লিখিত আবেদন জমা পড়ে দুদকে।৫ মার্চ ২০২৬ একই অভিযোগের বিষয়ে দ্বিতীয় আবেদন জমা দিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
আইনি কাঠামো কী বলছে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দণ্ডবিধির দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তদন্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক আইনের আওতায় মামলা হতে পারে।
দুদকের প্রক্রিয়া
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে প্রাথমিক যাচাই (ভেরিফিকেশন) করা হয়। অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে এরপর অনুসন্ধান বা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়।
বিশ্লেষণ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অভিযোগ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বাড়বে।