
নিজস্ব প্রতিবেদক বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২০ কোটি টাকার একটি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র (আইডি: ১১২০৮৫৩) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় আহ্বান এবং নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানো হয়। এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা যায়।পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন মিয়ার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে সেই সুপারিশ কার্যকর হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।” তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে নুরুল আমিন মিয়া একাধিকবার পদোন্নতি পান। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের বাসায় বসবাস, গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয়, কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত থাকার তথ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সামনে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, তার ঘোষিত আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুল আমিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তারও জবাব মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আলোচিত প্রকল্পগুলো পুনরায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।