ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামে অবস্থিত ‘লেক আইল্যান্ড ঢাকা’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এম এইচ গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জনাব মোবারক হোসেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি—প্রকল্পটি আইন ও বিধি উপেক্ষা করে সরকারি খাস জমি এবং ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের ঘটনাও ঘটছে। খাস জমি ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রির চেষ্টা চলছে। এছাড়া একটি মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমি বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর বা বাণিজ্যিক প্রকল্পে ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। একইভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিক্রি বা হস্তান্তর করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। গ্রাহকদের অভিযোগ: পাঁচ বছরেও উন্নয়ন নেই ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্লট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম দেখা যায়নি। রাস্তা, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ কিংবা অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—প্রকল্প এলাকায় উন্নয়ন না হলেও প্রকল্পের সামনেই চেয়ারম্যানের নামে একটি ছয়তলা ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের ভাষ্য, তাদের বিনিয়োগের অর্থ যথাযথভাবে প্রকল্পে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জমি দখল ও স্থানীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
কয়েকজন জমির মালিকের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তাদের জমি কম দামে বা কোনো অর্থ ছাড়াই দখল করে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দলিল স্বাক্ষর করানো বা জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে।
যদি এ অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা দণ্ডবিধি, ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পূর্ব অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, এম এইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন অতীতেও একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত আইনগতভাবে কেউ দোষী সাব্যস্ত নন—এ কথা উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, ওয়াকফ প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের জমির কাগজপত্র, মালিকানা, অনুমোদন ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
কোম্পানির বক্তব্য
এ বিষয়ে এম এইচ গ্রুপ বা চেয়ারম্যান মোবারক হোসেনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বক্তব্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপসংহার:
আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি খাস জমি, ওয়াকফ সম্পত্তি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।