
রাজধানীর মুগদা এলাকার মানিকনগর ও মান্ডায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আসমা ও তাঁর পুত্রবধূ হুমায়রার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বাসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে একাংশ তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কয়েকজন সচেতন যুবক একত্র হয়ে অভিযুক্তদের বাসায় গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অভিযোগ, ঘরের ভেতরে মাদকদ্রব্য দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর প্রস্তুতি নেন এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা ঘরের জানালা ও বারান্দা দিয়ে মজুত করা মাদক বাইরে ফেলে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ধারালো দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে মুগদা থানা–র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদক জব্দ বা তাৎক্ষণিক মামলা না করে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে গিয়ে পরে ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে প্রতিবাদে যাওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির চেষ্টা’র অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুবকেরা মাদক উদ্ধারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ৫০ হাজার টাকা দাবি করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook–এ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল জানানো হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মত, অভিযোগ যেদিকেই থাকুক না কেন—মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও পাল্টা মামলার এই পরিস্থিতিতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এলাকায় উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।