
রাজধানীভিত্তিক সরকারি সংস্থা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এ নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উপপরিচালক ড. তারেক হোসেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ, টেন্ডার ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের পক্ষ থেকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬০০ কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রার্থী বাছাই ও পরীক্ষার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুবিধা দিতে প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া উপপরিচালকের ব্যক্তিগত গাড়িচালককে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি বলে তারা দাবি করেন।
টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত প্রায় ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কাগজপত্র সরবরাহে গড়িমসি করা হয়েছে। যদিও দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় প্রাণিসম্পদ মেলার আয়োজনেও প্রায় ৪ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেলার প্রস্তুতি, সরঞ্জাম ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নাম ঘুরে ফিরছে।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবাদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহিতা জরুরি। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারেও তা সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।