
দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৯৭ কোটি টাকার ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড, যার চেয়ারম্যান মাসুদ আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত হয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে শীর্ষে মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত কারিগরি ও আর্থিক স্কোরে প্রথম স্থান অর্জন করে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট ক্রয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য: দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান “দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চম ব্যাচে ৩ মাস মেয়াদি (৬০০ ঘণ্টা) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এপ্রিল ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ চলবে। উদ্যোক্তাদের মতে, বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ অপরিহার্য—এ প্রকল্প সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত। ৮ বিভাগের ৪৮ জেলায় সুযোগ ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের মোট ৪৮ জেলার যুবক ও যুব নারীরা আবেদন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত ডিজিটাল দক্ষতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অগ্রাধিকার
ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস বয়স ১৮–৩৫ বছর
প্রতি ব্যাচে কমপক্ষে ৩০% নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত
কম্পিউটার জ্ঞান ও নিজস্ব ল্যাপটপ থাকলে অগ্রাধিকার
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদ
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি
এইচএসসি বা সমমানের সনদ
সুযোগ-সুবিধা
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ
দৈনিক ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা
সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা
কোর্স শেষে সনদ প্রদান
ভর্তি ও পরীক্ষার সময়সূচি
আবেদনের শেষ তারিখ: ৩ মার্চ ২০২৬ (রাত ১১:৫৯)
লিখিত পরীক্ষা: ৬ মার্চ ২০২৬
মৌখিক পরীক্ষা: ৭ মার্চ ২০২৬
চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬
যোগ্য প্রার্থীদের সময়সূচি ও ফলাফল এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় বাজেটের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের আইটি খাতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে এ উদ্যোগ সফল হলে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।
সব মিলিয়ে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ এবং মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প দেশের তরুণ সমাজের মাঝে শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।