
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরেজমিন কার্যক্রম জোরদার করেছেন ঢাকা–৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। সম্প্রতি তিনি মান্ডা খাল ও জিরানি খাল পরিদর্শন করে খাল দুটির বর্তমান অবস্থা, পানিপ্রবাহ, দখল ও দূষণ পরিস্থিতি এবং আশপাশের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জলাবদ্ধতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং খাল পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
খাল পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী নন্দীপাড়া ব্রিজ, ত্রিমোহনী ভোদারঘাট, নাকদার পার ব্রিজ, বেগুনবাড়ি ব্রিজ, মান্ডা ব্রিজ এবং মুগদা কালভার্ট ব্রিজ এলাকাও ঘুরে দেখেন। এসব স্থানে তিনি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং স্থানীয় জনগণের চলাচল-সুবিধা পর্যালোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় মেরামত ও উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা শুধু একটি মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি নাগরিক জীবন, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। খালগুলো সচল থাকলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং নাগরিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা খাল পুনরুদ্ধার ও ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে এবং এলাকাগুলো হবে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–৯ এলাকায় টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে—এমনটাই আশা স্থানীয়দের।