
রাজধানীর সবুজবাগ থানার আওতাধীন শাহিবাগ ও বেগুনবাড়ি এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এ এলাকাগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও হতাশা বিরাজ করছে।
জানা যায়, দক্ষিণগাঁও ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ার পর ভেঙে গঠন করা হয় ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। নতুন এ ওয়ার্ডের অন্তত তিনটি এলাকায়—দক্ষিণগাঁও, শাহিবাগ ও বেগুনবাড়ি বরতলা—পানির তীব্র সংকট চলছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস বেশি হওয়ায় এ সংকট তাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বাসিন্দারা জানান, সকালে কিছু সময়ের জন্য পানি পাওয়া গেলেও দুপুরের পর থেকে অধিকাংশ এলাকায় পানি থাকে না। পানির অভাবে গোসল, রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ওয়াসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় বিদ্যমান পানির পাম্পগুলো ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে পারছে না। নতুন পাম্প বসানোর প্রয়োজন হলেও জায়গার সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিণগাঁও এলাকায় একটি পানির পাম্প থাকলেও বর্তমানে সেটিতেও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে কথা হয় ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ শহীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলছি। সকালে কিছু সময় পানি পাওয়া যায়, কিন্তু দুপুরের পর থেকে থাকে না। পানির অভাবে অনেক গৃহস্থালি কাজ বন্ধ রাখতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যান।”
তিনি আরও জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটও রয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় গ্যাস সংযোগ নেই। তিতাস গ্যাস বর্তমানে নতুন সংযোগের অনুমোদন দিচ্ছে না। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পানি ও গ্যাস সংকটে অনেকে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। কিন্তু পানির বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিবের কাছে সমস্যাটি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান শহীদুল্লাহ শহীদ। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে পানি সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
পানি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।