গণপূর্ত অধিদপ্তর–এ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীকে ঘিরে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিতর্ক ছাপিয়ে এখন সামনে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়টি।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) শাখায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি দীর্ঘ সাত বছর ই/এম সার্কেল–৩ এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭ এ কর্মরত ছিলেন। এই সময়েই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ ভবন এলাকায় ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক কাজ দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্প উন্নয়নমূলক হলেও বাস্তবে কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষমতা ছিল মূলত নির্বাহী প্রকৌশলীর হাতেই।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম কাজ সম্পন্ন করেও পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও পুরোনো যন্ত্রাংশকে নতুন দেখিয়ে ক্রয়, আবার কোথাও অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের নামে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক তদারকি যথাযথভাবে কার্যকর ছিল না বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও দপ্তরের ভেতরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই বিভাগের এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত ১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকেও বদলি করা হয়েছে। এই একযোগে বদলি প্রশাসনিক রুটিন সিদ্ধান্ত নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার অংশ—এ প্রশ্ন এখন দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। যথাযথ অনুসন্ধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এটি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার প্রশ্নে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।