গণপূর্ত অধিদপ্তরের (গণপূর্ত অধিদপ্তর) একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়রা বিনতে রেজাকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের দাবি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, ২৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ইএম গণপূর্ত বিভাগ-৪–এ দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দাবি করা হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মতবিরোধও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার প্রশাসনিক ভাবমূর্তি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দপ্তর সূত্রে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত জীবন ও সরকারি দায়িত্ব আলাদা বিষয়; প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়রা বিনতে রেজা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্মান রক্ষায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে স্বচ্ছ তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান এখন সময়ের দাবি।