এম এ হালিম ঢালী...
আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বা পয়তাল্লিশ বছর পূর্বের কথা। তখন কারো হাতে টাস মোবাইল ছিলোনা। ছিলোনা এখনকারমত ইন্টারনেট ও ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা।
ছিলোনা ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
ঢাকার পাড়ায় মহল্লার অলিগলিতে ছিলো ঔষধের দোকান। সেই ঔষধের দোকান গুলোতেই বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারগণ সন্ধ্যার পর বসতেন এবং রোগী দেখতেন। ডাক্তারদের ভিজিটও ছিলো মাত্র ১০ টাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসার হুজুর নামের শিক্ষকদের দ্বারা শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়া ও ফেসবুক ইউটিউবে দেখছি, তাতে গা শিউরে ওঠছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫/৬ বছরের কোমলমতি শিশুদের ধর্ষণ ও বলাৎকার করে মেরেও ফেলা হচ্ছে।
এই ভয়ংকর দৃশ্যগুলো দেখে এবং শুনে চল্লিশ-পয়তাল্লিশ বছর পূর্বের এক ডাক্তারের কথা মনে পড়ে গেলো।
তখনকার মানুষ সামান্য অসুস্থ হলেই ঐ ঔষধের দোকানে বসে রোগী দেখা ডাক্তারদেরই স্বরণাপন্ন হতেন।
আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। সামান্য ঠান্ডা জনিত কাশ, জ্বর ও ব্যাথা অনুভব করলে ডাক্তারের কাছে যেতাম। তখন এতো পরিক্ষা নিরিক্ষার ব্যবস্থা ছিলোনা। ঐ ডাক্তার মহোদয়গণ চোখ, জ্বিহ্বা, বোগল তলিতে অথবা মুখের ভিতর জ্বর মাপার থার্মোমিটার ও শরীরের অন্যান্য অংশ পরিক্ষর জন্য স্টেথোস্কোপ (Stethoscope) ব্যবহার করতেন। তখনকার ডাক্তাররা এভাবেই পরিক্ষা নিরিক্ষা করে ঔষধ লেখে দিলে এবং নিয়মিত সেই ঔষধ খেলে রোগী ভালো হয়ে যেতো। তখন এতো পরিক্ষা নিরিক্ষার ঝামেলা ছিলো না। আমিও সেরকম অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতাম রোগী হিসেবে।
সেই চল্লিশ বা পয়তাল্লিশ বছর পূর্বের কথা। আমি মুগদার এক ঔষধের দোকানে গিয়ে আমার শারীরিক অসুস্থতার কথা বললাম। তারপর তিনি আমাকে দেখে ঔষধ লিখে দিলেন। ডাক্তার সাহেব ছিলেন আমার পরিচিত। এখন তার নাম মনে করতে পারছিনা। ঐ ঔষধের দোকানে আরো দুই তিনজন রোগী বা কাস্টমার ছিলেন। ডাক্তার সাহেব ছিলেন খুবই মিশুক। তিনি রোগীদের সাথে গল্পে মেতে উঠতেন। এমনকি রোগীদের ভালো থাকার জন্য কি কি করনীয় এবং কি কি খেলে ভালো থাকা যায়, সেই পরামর্শ দিতেন।
সেদিন একটি ভয়ংকর গল্প শুনালেন ডাক্তার সাহেব। গল্পটি শুনে আমার হাত-পা অবশ ও হ্নিদ স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো।
ডাক্তার সাহেব বল্লেন, তিনি যে হাসপাতালে চাকরি করতেন, সেই হাসপাতালে একজন মাদ্রাসার শিক্ষক অর্থাৎ হুজুর রোগী হিসেবে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি মাথায় ধপধপে সাদা টুপি ও মুখ মন্ডলে আধাপাকা আধা কাঁচা দাঁড়ি।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি রোগ বা শরীরে কি অসুবিধা?
ডাক্তার সাহেব তখন লক্ষ্য করছিলেন, হুজুর বারবার তার গোপন জায়গায় অর্থাৎ নফছ বা লিঙ্গের মধ্যে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। হুজুরকে ডাক্তার সাহেব বলছিলেন, আপনি এমন করছেন কেনো? হুজুর তখন বলছেন, ডাক্তার সাহেব আপনি আমাকে তাড়াতাড়ি দেখেন এবং ঔষধ দেন।
ডাক্তার বল্লেন কি হয়েছে আপনার? তখন হুজুর বল্লেন, ডাক্তার সাহেব, আমার পেশ্রাবের রাস্তা দিয়ে সারাদিন সাদা ও লম্বা লম্বা চিকন পোকা বের হচ্ছে। আর সারাক্ষণ ভিতরে চুলকায় এবং কামড়ায়। প্রচন্ড ব্যাথা করে।
ডাক্তার সাহেব হুজুরের কথা শুনে অভাক হয়ে গেলেন। এ অবস্থায় তো আর লজ্জা শরম করে লাভ নেই। ডাক্তার সাহেব, তার পাজামা খুলতে বল্লেন। হুজুর পাজামা খুল্লেন। পাজামা খোলার পর ডাক্তার যা দেখলেন, তা অবাক ও বিষ্ণয়কর ঘটনা। ডাক্তার দেখলেন হুজুরের মুত্রনালী দিয়ে তখনো চিকন ও সাদা সাদা সুতার মতো কৃর্মির বাচ্চা বাহির হচ্ছে।
ডাক্তার বল্লেন, এর আগে এমন রোগী তিনি আর দেখেননি। তখন ডাক্তার সাহেব কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে তার দুই তিনজন সহযোগী ডাক্তারকে বিষয়টি বল্লেন। ঐ ডাক্তাররা তার চেম্বারে এসে রোগীকে দেখলেন। তারাও অবাক। এরপর তৎক্ষনাৎ ছোটখাটো একটি বোর্ড গঠন করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিক্ষা নিরিক্ষা চালিয়ে যা দেখলেন, এটা একটি মহা পাপের ফসল।
ডাক্তাররা বুঝে গেছেন, কোথা থেকে এ রোগের উৎপত্তি। ডাক্তার সাহেব, রোগীর বর্ণনা দিতে গিয়ে আমাদের বল্লেন, এই বদমায়েশ হুজুর মারাত্মকভাবে গুড়া কৃর্মিতে আক্রান্ত এক শিশুকে বলাৎকার করতে গিয়ে তার এ দশা হয়েছে।
ডাক্তার বল্লেন ঐ শিশুর পায়ুপথে যখন হুজুর তার লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে আপ-ডাউন করেছেন, তখন ঘটনাক্রমে সুতার মতো চিকন কৃর্মি তার মুত্রনালী দিয়ে প্রবেশ করেছে এবং তা মুত্রথলিতে বাসা বেঁধেছে। সেখানে বাসা বেঁধে হাজার হাজার বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। ঐ কৃর্মির বাচ্চাগুলো বিরাট ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দ্রুত তাকে অপারেশন করে কৃর্মির বাচ্চাগুলো অপসারণ করতে গিয়ে দেখা যায় হুজুরের একটি অন্ডকোষ অর্থাৎ একটি বীচি নষ্ট হয়ে গেছে। অপরটিও নষ্ট হওয়ার পথে।
এরপর ডাক্তার বল্লেন, ঐ হুজুর প্রায় একমাস হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এরপরে ডাক্তার বল্লেন, ঐ রোগী এক বীচি নিয়ে কতোদিন বেঁচে ছিলেন। কিম্বা আদৌ বেঁচে আছেন কি-না জানিনা।
লেখাটি একজন ডাক্তার এর কাছ থেকে শুনা। লেখাটির কিছু কিছু জায়গায় ভয়ংকর ও লোমহর্ষক হলেও জনস্বার্থে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি।
আশাকরি যারা শিশুদের বলাৎকার করেন, তাদের জন্য হতে পারে একটি শিক্ষনীয় বিষয়...
লেখকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা (গেরিলা) গণমাধ্যম কর্মী ও কলামিস্ট।
তারিখঃ ১০ জুন ২০২৬ইং