স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর গুলশান এলাকায় “ভাগ্য পরিবর্তন” ও “পাথরের শক্তি” দেখানোর নামে পরিচালিত এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং আর্থিক সমঝোতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে “জুপিটার জেমস ওয়ার্ল্ড” নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত মাকসুদা আক্তার রুমি।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গুলশান-১ এর নিকেতন এলাকার একটি বাণিজ্যিক কার্যালয়। সেখানে কথিতভাবে মূল্যবান পাথর, আংটি ও হাত দেখে ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসার মূল কৌশল হলো মানুষের দুর্বলতা, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়। সাংবাদিকরা জানতে চান—আসলেই কি আংটি-পাথরের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব, কিংবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দেওয়া যায় কি না। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে বিষয়টি গুলশান থানায় গড়ায়।
এ ঘটনায় হাসান নামের একজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আর্থিক সমঝোতার দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক ধাপে মোট ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক জরিমানা, নগদ অর্থ প্রদান এবং পরবর্তী কিস্তিতে অর্থ দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, “ভাগ্য পরিবর্তন”, “জ্যোতিষ শক্তি”, “পাথরের প্রভাব” কিংবা “অলৌকিক সমাধান” — এসব দাবির আড়ালে দেশে বহু প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে অর্থ আদায়ের এ ধরনের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে নানা রূপে বিস্তার লাভ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা, আর্থিক সাফল্য, বিবাহ, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত ভাগ্য উন্নয়নের নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ গ্রহণ করলে তা প্রতারণার আওতায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, লাইসেন্স যাচাই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থার হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় “ভাগ্য বদল” এর মোড়কে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য চলতেই থাকবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।