
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশে অনলাইন ট্রেডিংয়ের আড়ালে প্রতারণা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। “ট্রেডিং চার্ট” নামে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে দ্রুত লাভের প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই বিনিয়োগ করলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ফেরত পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা যায়, এই কার্যক্রমের আড়ালে টাকা পাচারের মতো গুরুতর অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। সালাউদ্দিন হোসেন ওরফে রবিন নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পাশাপাশি তার বাবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এমনকি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেন যে, “টাকা থাকলে সব কাজই করা যায়,”—যা বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এছাড়া তার ম্যানেজার সাওন এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সহায়তা করছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। কিছুদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলেও পরবর্তীতে দেশে ফিরে আসেন। তার অনুপস্থিতিতে দেশের ভেতরে অবৈধ কার্যক্রমগুলো তার ম্যানেজার সাওনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদেশি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের রেফারেল লিংক ও পার্টনার কোড ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এর কোনো স্বচ্ছতা বা নিরাপত্তা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন অনলাইন ট্রেডিং কার্যক্রম বাংলাদেশে বেআইনি এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অন্যথায় দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হতে থাকবে।
সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যেকোনো অনলাইন বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা।